কান বা লেজ কাটা পশুর কুরবানি হবে কি | কুরবানীর মাসআলা
কুরবানি ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। এই ইবাদতের জন্য পশুর কিছু শর্ত রয়েছে, যাতে পশুটি শারীরিকভাবে সুস্থ ও ত্রুটিমুক্ত হয়। অনেক সময় প্রশ্ন আসে—যে পশুর কান বা লেজ কাটা আছে, সেই পশু দিয়ে কুরবানি করা যাবে কি?
কান বা লেজ কাটা পশুর কুরবানি কি জায়েজ?
ইসলামী শরিয়ত অনুযায়ী, যদি পশুর কান বা লেজ সামান্য কাটা থাকে, তাহলে সাধারণভাবে কুরবানি জায়েজ হবে।
তবে যদি কান বা লেজ এত বেশি কাটা থাকে যে পশুর সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক অবস্থা নষ্ট হয়ে গেছে, তাহলে সেই পশু দিয়ে কুরবানি করা মাকরূহ বা অনুচিত বলে গণ্য হয়।
কোন অবস্থায় কুরবানি সহীহ হবে?
নিচের অবস্থায় কুরবানি সহীহ হবে:
* সামান্য কান কাটা (ছোট অংশ কাটা)
* সামান্য লেজ কাটা, তবে পুরো লেজ নয়
* জন্মগতভাবে সামান্য ত্রুটি থাকা
কোন অবস্থায় কুরবানি ঠিক হবে না?
নিচের অবস্থায় কুরবানি গ্রহণযোগ্য নয়:
* পুরো কান বা বড় অংশ কাটা
* পুরো লেজ কাটা বা প্রায় নেই
* পশুর সৌন্দর্য ও স্বাভাবিক গঠন নষ্ট হয়ে যাওয়া
রাসূলুল্লাহ ﷺ কুরবানির জন্য ত্রুটিমুক্ত পশু নির্বাচন করতে বলেছেন।
হাদিসের নির্দেশনা
রাসূল ﷺ বলেছেন:
“চার ধরনের পশু কুরবানির উপযুক্ত নয়—স্পষ্ট কানা, স্পষ্ট রোগাক্রান্ত, স্পষ্ট খোঁড়া এবং অতিরিক্ত দুর্বল পশু।”— (তিরমিজি, আবু দাউদ)
এই হাদিস থেকে বোঝা যায়, গুরুতর শারীরিক ত্রুটি থাকলে সেই পশু কুরবানির জন্য উপযুক্ত নয়।
উত্তম কুরবানির পশু কেমন হওয়া উচিত?
* সুস্থ ও শক্তিশালী* সুন্দর গঠন সম্পন্ন
* বড় ধরনের শারীরিক ত্রুটি মুক্ত
কেন ত্রুটিমুক্ত পশু গুরুত্বপূর্ণ?
কুরবানি হলো আল্লাহর প্রতি শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার প্রকাশ। তাই উত্তম ও সুন্দর পশু আল্লাহর পথে উৎসর্গ করা উচিত। এটি তাকওয়ার একটি অংশ।
আল্লাহ তাআলা বলেন:
“আল্লাহর কাছে পৌঁছে না তাদের গোশত ও রক্ত; বরং পৌঁছে তোমাদের তাকওয়া।”— সূরা হজ: ৩৭
উপসংহার
কান বা লেজ সামান্য কাটা পশু দিয়ে কুরবানি করা জায়েজ। তবে বড় ধরনের ত্রুটি থাকলে সেই পশু কুরবানির জন্য উপযুক্ত নয়। তাই আমাদের উচিত সুস্থ, সুন্দর ও ত্রুটিমুক্ত পশু নির্বাচন করে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য কুরবানি আদায় করা।

No comments